ভক্তিই শক্তি

চাপ কমাতে শ্বাস-অভ্যাস ও বিশ্রামের আসন

চাপ কমাতে শ্বাস-অভ্যাস ও বিশ্রামের আসন

মানসিক চাপ কমাতে দুটি শ্বাস-অভ্যাস ও দুটি বিশ্রামদায়ক আসন — সিংহাসন, শীতলী, সুপ্ত বীরাসন ও শবাসন। পদ্ধতি, উপকারিতা ও সতর্কতা।

চাপের মুখে শ্বাস অগভীর ও দ্রুত হয়ে যায়, পেশি শক্ত হয়। শ্বাস সচেতনভাবে ধীর করলে এই প্রতিক্রিয়াটাই উল্টো দিকে ঘোরে — হৃদস্পন্দন কমে, শরীর শিথিল হয়।

নিচের চারটি অভ্যাস একসঙ্গে করলে একটি পূর্ণ ক্রম তৈরি হয় — প্রথমে ভার মুক্ত করা, তারপর শীতল করা, তারপর বিশ্রাম।

প্রাণায়ামের অন্যান্য পদ্ধতি জানতে দেখুন: প্রাণায়াম — পদ্ধতি, উপকারিতা ও সতর্কতা

১. সিংহাসন (লায়ন্স ব্রেথ)

নামটি এসেছে সিংহের গর্জন থেকে। মুখ, চোয়াল ও গলার পেশি শিথিল করার জন্য এটি সবচেয়ে সরাসরি অভ্যাস — আর চাপ এই তিন জায়গাতেই সবচেয়ে বেশি জমে।

কীভাবে করবেন:

  1. হাঁটু গেড়ে বা আসনে সোজা হয়ে বসুন, হাত হাঁটুর উপর।
  2. নাক দিয়ে গভীর শ্বাস নিন।
  3. মুখ বড় করে খুলে জিভ চিবুকের দিকে বার করুন।
  4. মুখ দিয়ে জোরে শ্বাস ছাড়ুন, “হা” শব্দ করে।
  5. ৩–৫ বার।

প্রথমবার অস্বস্তিকর লাগতে পারে — এটাই স্বাভাবিক। একা অভ্যাস করলে সহজ হয়।

২. শীতলী ও শীৎকারী

শীতল করার শ্বাস-অভ্যাস। গরমে, কিংবা জোরালো অভ্যাসের পরে শরীর ঠান্ডা করতে ব্যবহৃত হয়। আয়ুর্বেদীয় পরিভাষায় এটি পিত্ত প্রশমিত করে বলে বলা হয়।

শীতলী: সোজা হয়ে বসুন। জিভ লম্বালম্বি ভাঁজ করে নলের মতো করুন এবং সামান্য বার করুন। সেই নল দিয়ে ধীরে শ্বাস নিন, মুখ বন্ধ করে নাক দিয়ে ছাড়ুন। ৫–১০ বার।

শীৎকারী: জিভ ভাঁজ করতে না পারলে এটি করুন। দাঁত হালকা চেপে ঠোঁট ফাঁক করুন, দাঁতের ফাঁক দিয়ে শ্বাস নিন, নাক দিয়ে ছাড়ুন।

ঠান্ডা লাগার প্রবণতা, হাঁপানি বা শীতকালে এই অভ্যাস এড়িয়ে চলাই ভালো।

৩. সুপ্ত বীরাসন

শুয়ে করা মৃদু পিছনে বাঁক। ঊরুর সামনের পেশি ও কোমরের সংযোগস্থল প্রসারিত হয় — দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করলে এই জায়গাগুলিই সবচেয়ে আড়ষ্ট থাকে।

কীভাবে করবেন: হাঁটু গেড়ে বসুন, নিতম্ব গোড়ালির মাঝে। ধীরে পিছনে হেলে কনুইয়ে ভর দিন, আরাম লাগলে পিঠ মাটিতে নামান।

সহজ করতে: পিঠের নিচে কুশন বা ভাঁজ করা কম্বল রাখুন। হাঁটু বা কোমরে টান লাগলে কনুই পর্যন্তই থামুন।

হাঁটু, গোড়ালি বা কোমরে সমস্যা থাকলে এই আসন এড়িয়ে চলুন বা প্রশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে করুন। খাওয়ার অন্তত দুই ঘণ্টা পরে করুন।

৪. শবাসন

দেখতে সবচেয়ে সহজ, করতে সবচেয়ে কঠিন — কারণ এখানে কিছুই করার নেই।

চিত হয়ে শুয়ে পা সামান্য ফাঁক করুন, হাত শরীরের দু’পাশে তালু উপরের দিকে। চোখ বন্ধ করে শরীর সম্পূর্ণ আলগা ছেড়ে দিন। ৫–১০ মিনিট।

মন ঘুরতে থাকবে — সেটি স্বাভাবিক। শুধু শ্বাস লক্ষ করুন। এই বিশ্রামেই স্নায়ুতন্ত্র শান্ত হয়, তাই অভ্যাসের শেষে এটি বাদ দেবেন না।

একটি সম্পূর্ণ ক্রম

  1. সিংহাসন — ৩ বার (চোয়াল ও গলার টান মুক্ত করতে)
  2. শীতলী বা শীৎকারী — ৫ বার (শীতল করতে)
  3. সুপ্ত বীরাসন — ২ মিনিট (শরীর খুলতে)
  4. শবাসন — ৫ মিনিট (বিশ্রাম)

মোট ১০–১৫ মিনিট। দিনের শেষে বা চাপের সময় করা যায়।

এই লেখাটি সাধারণ তথ্যের জন্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। দীর্ঘস্থায়ী উদ্বেগ বা মানসিক চাপে চিকিৎসক বা মনোবিদের পরামর্শ নিন।

সাধারণ প্রশ্ন

সিংহাসন করতে অস্বস্তি লাগে — স্বাভাবিক?

হ্যাঁ। মুখ খুলে শব্দ করতে প্রথমে অস্বস্তি হয়। একা অভ্যাস করলে সহজ হয়ে যায়।

জিভ ভাঁজ করতে পারি না — শীতলী করা যাবে?

শীৎকারী করুন। দাঁতের ফাঁক দিয়ে শ্বাস নিলে একই ফল মেলে, জিভ ভাঁজ করতে হয় না।

শীতলী কখন করা উচিত নয়?

ঠান্ডা লাগার প্রবণতা, হাঁপানি বা শীতকালে এড়িয়ে চলুন, কারণ এটি শরীর ঠান্ডা করে।

সুপ্ত বীরাসনে হাঁটুতে টান লাগছে — কী করব?

পিঠ মাটিতে না নামিয়ে কনুই পর্যন্ত থামুন এবং পিঠের নিচে কুশন রাখুন। ব্যথা হলে আসনটি বাদ দিন।

শবাসনে মন স্থির থাকছে না

এটি স্বাভাবিক। মন সরে গেলে আবার শ্বাসে ফিরুন। বিশ্রামই মূল উদ্দেশ্য, নিখুঁত স্থিরতা নয়।

দিনে কতক্ষণ করা উচিত?

১০–১৫ মিনিটের একটি ক্রমই যথেষ্ট। প্রতিদিন একই সময়ে করলে ফল ভালো হয়।

Jeevan Tipke
Written by

Bachelor of Engineering (B.E.), MBA | Certified Digital Marketing Professional (SEMrush, LinkedIn, Amazon, Skillup & HubSpot)

Jeevan Tipke writes on Hindu devotion at BhaktiMeShakti, covering aartis, chalisas and mantras alongside the stories, puja vidhi and fasting rules behind major deities and festivals.