ভক্তিই শক্তি

শরীরের সচেতনতার জন্য ১০টি যোগাসন

শরীরের সচেতনতার জন্য ১০টি যোগাসন

শরীরের প্রতি সচেতনতা গড়ে তোলার দশটি আসন — প্রতিটির পদ্ধতি, উপকারিতা ও সহজ করার উপায়। নতুনদের জন্য উপযোগী।

যোগে আসনের চেয়ে বড় বিষয় হল সচেতনতা — কোন পেশি কাজ করছে, কোথায় টান লাগছে, শ্বাস কোথায় আটকে যাচ্ছে, এসব লক্ষ করা। এই সচেতনতাই ভঙ্গি শুধরায়, আঘাত এড়ায় এবং অভ্যাসকে ধ্যানের কাছাকাছি নিয়ে যায়।

নিচের দশটি আসন এই সচেতনতা গড়ে তোলার জন্য উপযোগী। প্রতিটিতে ৩০ সেকেন্ড থেকে এক মিনিট থাকুন, শ্বাস স্বাভাবিক রেখে।

১. অধোমুখ শ্বানাসন (ডাউনওয়ার্ড ডগ)

হাত ও পায়ে ভর দিয়ে নিতম্ব উপরে তুলুন, শরীর উল্টো V আকৃতিতে। কাঁধ, হাত ও পিঠ শক্তিশালী হয়, হ্যামস্ট্রিং প্রসারিত হয়।

সহজ করতে: হাঁটু সামান্য ভাঁজ রাখুন। কব্জিতে সমস্যা থাকলে দেয়ালে হাত রেখে অর্ধেক সংস্করণ করুন।

২. মার্জারী-বিটিলাসন (ক্যাট-কাউ)

হাত ও হাঁটুতে ভর দিয়ে শ্বাসের সঙ্গে পিঠ নামান ও গোল করুন। মেরুদণ্ডের প্রতিটি অংশ আলাদা করে অনুভব করার জন্য এটিই সবচেয়ে ভালো আসন — তাই সচেতনতা গড়ে তুলতে এখান থেকেই শুরু করা উচিত।

৩. বালাসন (শিশু আসন)

হাঁটু গেড়ে বসে সামনে ঝুঁকে কপাল মাটিতে রাখুন। পিঠ ও কাঁধ শিথিল হয়, শ্বাস স্থির হয়। যেকোনো সময় বিশ্রামের জন্য এই আসনে ফিরে আসা যায়।

সহজ করতে: হাঁটুর নিচে বা বুকের নিচে কুশন রাখুন।

৪. বীরভদ্রাসন ১ (ওয়ারিয়র ১)

এক পা সামনে ভাঁজ করে, পিছনের পা সোজা রেখে দাঁড়ান; হাত দুটি উপরে তুলুন। ঊরু ও পায়ের পেশি শক্তিশালী হয়, বুক ও কাঁধ প্রসারিত হয়।

আসনটির নাম পুরাণের যোদ্ধা বীরভদ্রের নামে — অহং ও অজ্ঞতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রতীক।

৫. বীরভদ্রাসন ২ (ওয়ারিয়র ২)

পা দুটি দূরে রেখে সামনের হাঁটু ভাঁজ করুন, দুই হাত দু’পাশে ছড়িয়ে দিন, দৃষ্টি সামনের হাতের দিকে। নিতম্ব ও বুক খোলে, সহনশীলতা বাড়ে।

এই আসনে হাত ধরে রাখতে অস্বস্তি হয় — আর সেখানেই সচেতনতার অভ্যাস। মন কখন পালাতে চাইছে লক্ষ করুন, তারপর আবার শ্বাসে ফিরুন।

৬. বীরভদ্রাসন ৩ (ওয়ারিয়র ৩)

এক পায়ে দাঁড়িয়ে শরীরকে সামনে ঝুঁকিয়ে অন্য পা পিছনে সোজা তুলুন, যাতে শরীর ও পা মিলে মাটির সমান্তরাল হয়। হাত সামনে বাড়ানো বা নিতম্বে।

সহজ করতে: পিছনের হাঁটু সামান্য ভাঁজ রাখুন, অথবা হাতের নিচে ব্লক ব্যবহার করুন। ভারসাম্যের সমস্যা থাকলে দেয়ালের সাহায্য নিন।

৭. বৃক্ষাসন (ট্রি পোজ)

এক পায়ে দাঁড়িয়ে অন্য পায়ের পাতা ঊরু বা গোছার ভিতরের দিকে রাখুন, হাত বুকের সামনে বা মাথার উপরে। হাঁটুর উপর পা রাখবেন না।

ভারসাম্যের আসনে শরীরের অবস্থান সম্পর্কে সচেতনতা সবচেয়ে দ্রুত বাড়ে, কারণ একটু অমনোযোগেই ভারসাম্য নষ্ট হয়।

৮. ত্রিকোণাসন (ট্রায়াঙ্গল)

পা দূরে রেখে দাঁড়ান, এক দিকে ঝুঁকে নিচের হাত গোছা, ব্লক বা মেঝেতে রাখুন এবং অন্য হাত উপরে তুলুন। শরীরের পাশের অংশ প্রসারিত হয়, মেরুদণ্ড লম্বা হয়।

সহজ করতে: হাত গোড়ালিতে না নিয়ে গোছা বা ব্লকে রাখুন। হাঁটু বা নিতম্বে অস্বস্তি হলে পায়ের দূরত্ব বদলে দেখুন।

৯. অর্ধ মৎস্যেন্দ্রাসন (বসে মোচড়)

পা সামনে ছড়িয়ে বসুন, এক পা ভাঁজ করে অন্য হাঁটুর পাশে রাখুন, শরীর সেই দিকে মোচড় দিন। মেরুদণ্ডের নমনীয়তা বাড়ে, দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার আড়ষ্টতা কমে।

মোচড় মৃদু রাখুন। ডিস্কের সমস্যা বা মেরুদণ্ডে অস্ত্রোপচারের ইতিহাস থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া করবেন না।

১০. অর্ধ চন্দ্রাসন (হাফ মুন)

এক পায়ে দাঁড়িয়ে অন্য পা পাশে তুলুন, নিচের হাত মেঝে বা ব্লকে, উপরের হাত আকাশের দিকে। এই তালিকার সবচেয়ে কঠিন আসন — ত্রিকোণাসন আয়ত্তে এলে তবেই চেষ্টা করুন।

সহজ করতে: দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে অভ্যাস করুন এবং হাতের নিচে ব্লক রাখুন।

অভ্যাসের সময় যা মনে রাখবেন

  • টান অনুভব করা স্বাভাবিক; ব্যথা নয়।
  • আসনে শ্বাস আটকে যাচ্ছে মানে আপনি সামর্থ্যের বাইরে যাচ্ছেন — একটু পিছিয়ে আসুন।
  • নিখুঁত ভঙ্গির চেয়ে নিজের শরীরের সীমা বোঝা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
  • শেষে শবাসনে অন্তত পাঁচ মিনিট বিশ্রাম নিন।
  • নতুন হলে প্রথম কয়েকটি ক্লাস প্রশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে করুন।

এই লেখাটি সাধারণ তথ্যের জন্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। কোনো শারীরিক সমস্যা থাকলে শুরুর আগে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন।

সাধারণ প্রশ্ন

প্রতিটি আসনে কতক্ষণ থাকা উচিত?

৩০ সেকেন্ড থেকে এক মিনিট, শ্বাস স্বাভাবিক রেখে। ভারসাম্যের আসনে কম সময় দিয়ে শুরু করুন।

নতুনরা কোনগুলি দিয়ে শুরু করবেন?

মার্জারী-বিটিলাসন, বালাসন ও বৃক্ষাসন — এই তিনটি মৃদু ও নিরাপদ।

সপ্তাহে কতদিন করা উচিত?

তিন থেকে পাঁচ দিন। প্রতিদিন অল্প সময় করাও চলে।

ক্রম মেনে করতেই হবে?

আবশ্যক নয়, তবে শুরুতে শরীর সচল করা এবং শেষে শবাসন রাখা উচিত।

ভারসাম্য রাখতে পারছি না — কী করব?

দেয়ালের সাহায্য নিন এবং সামনে এক জায়গায় দৃষ্টি স্থির রাখুন। ভারসাম্য অভ্যাসে আসে।

আসনের পর ধ্যান করা দরকার?

আবশ্যক নয়, তবে উপকারী। আসনের পর মন এমনিতেই কিছুটা স্থির থাকে, তাই ধ্যান সহজ হয়।

Jeevan Tipke
Written by

Bachelor of Engineering (B.E.), MBA | Certified Digital Marketing Professional (SEMrush, LinkedIn, Amazon, Skillup & HubSpot)

Jeevan Tipke writes on Hindu devotion at BhaktiMeShakti, covering aartis, chalisas and mantras alongside the stories, puja vidhi and fasting rules behind major deities and festivals.